মট্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন ২০২৫ অনুষ্ঠিত।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. । একটাই লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ
কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের লক্ষ্যে আজ মট্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন ২০২৫ এর প্রাতিষ্ঠানিক পর্বের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির ৫টি টেকনোলজি থেকে মোট ১৫টি উদ্ভাবনী প্রকল্প অংশগ্রহণ করে। প্রথম স্থান অধিকার করে কম্পিউটার টেকনোলজি (BusKhoja- your guide to local bus in Dhaka), দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে মেকানিক্যাল টেকনোলজি (180˚ rotating fire protecting system) এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে অটোমোবাইল টেকনোলজি (Engine Overheating Alert) শীর্ষক উদ্ভাবন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation (ASSET) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের অনন্য এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সম্মানিত যুগ্ম সচিব জনাব মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ভূঁইয়া এবং প্রকল্প পরিচালক, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগীয় শহরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জি. কাজী আবিদ হাসান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সিডিসি কনক্রিট লি.। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম, সহকারী প্রকল্প পরিচালক, ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব সাজ্জাদ হোসেন, উপ সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মট্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যক্ষ জেমস্ গোমেজ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সম্মানিত যুগ্ম সচিব জনাব মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে কারিগরি শিক্ষার সংযোগ আরও নিবিড় করতে হবে। প্রয়োজনে কারিগরি শিক্ষার শিক্ষাক্রম উন্নয়ন করতে হবে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব শিক্ষা আরও দক্ষতার সাথে শিখতে পারবে এবং দেশ ও জাতির জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবন করতে পারবে।
গেস্ট অব অনার এর বক্তৃতায় ইঞ্জি. কাজী আবিদ হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সম্ভব। তাই সব সময় শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জনাব মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের লক্ষ্যে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন শিক্ষার্থীদের দক্ষতাকে আরও বিকশিত করবে এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসার লাভ করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জনাব সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন তাদের মেধা দিয়ে যুগোপযোগী উদ্ভাবন করার।
উপস্থিত প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সকল উদ্ভাবনসমূহ পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, প্রকল্প/ উদ্ভাবনসমূহের মূল্যায়নকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আসফাক হোসেন আকন্দ, ব্যবস্থাপক (অটোমোবাইল), ট্রান্সকম ডিসট্রিবিউশন কো. লি., রোজালিনা রফিক, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ঢাকা কম্পিউটার কেন্দ্র, বিউবো, ঢাকা এবং গৌতম বিশ্বাস, সিইও, বিশ্বাস ফর্মিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।
কারিগরি শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কার সবার সামনে তুলে ধরার অনন্য এ প্রতিযোগিতাটি দেশব্যাপী সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ মোট ২২৭টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে মট্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি কারিগরি শিক্ষাঙ্গণের সর্ববৃহৎ এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে।
সবার জন্য উন্মুক্ত এ প্রতিযোগিতায় মট্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, কলকারখানা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন ২০২৫ এর আঞ্চলিক পর্ব আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এবং জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতা ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। চুড়ান্ত পর্বে বিজয়ী তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্ভাবকদের প্রদান করা হবে আকর্ষণীয় পুরস্কার।